আমি কোনো দলের রাজনৈতিক সাপোর্টার নই, বিএনপিরও না, জামায়াতেরও না। রাজনীতির ভাষায় আমি একজন সুইং ভোটার। এবারের নির্বাচনে আমার স্পষ্ট অবস্থান ছিল জামায়াতের বিপক্ষে, এবং সেটির সুনির্দিষ্ট কারণও রয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেকে একজন শিক্ষিত, রেসপনসিবল মানুষ হিসেবে দেখি। শুধু আমি নই, আমার চারপাশের একটি পরিমণ্ডলও আমাকে এভাবেই বিবেচনা করে। এই দায়িত্ববোধ থেকেই যখন আমি জামায়াতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি, নিশ্চিতভাবেই শুধু আমি নই, আমার পরিমণ্ডলও তা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
বিএনপিকে অভিনন্দন জানানোর সময় যখন অনেকে বিএনপিপন্থী হয়ে থাকার সিদ্ধান্তে অটল, তখন আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার জামায়াতবিরোধী অবস্থান কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে ভবিষ্যতে বিএনপির সব সিদ্ধান্তে আমি হ্যাঁ-হুজুরে পরিণত হব।
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক কাঠামোতে বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন আছে। সে পরিবর্তন যদি বিএনপি আনতে পারে, ভালো। নতুবা আমার বিরোধী, মৌন বা প্রকাশ্য, অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
আমি মনে করি, শাসন তখনই সুন্দর হয়, যখন জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার থাকে এবং শাসক স্বচ্ছ হয়। এখানে কেউ কারও গোলাম বা চাকর নয়; বরং একজন দায়িত্ব অর্পণকারী এবং আরেকজন দায়িত্ব পালনকারী।
এবার বলি, কেন এবারের নির্বাচনে আমার অবস্থান জামায়াতের বিপক্ষে ছিল। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমার সার্বিক জীবন বিবেচনা করলে দেখবেন, আমি সবসময়ই পড়াশোনার মধ্যেই ছিলাম এবং এই জীবনটাকেই উপভোগ করেছি।
আমার পরিমণ্ডলের অধিকাংশই মেধাবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। তাদের অনেকেরই আশা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার। আমার পরিচিত অনেকেরই এমন আশা ছিল। দীর্ঘকাল আওয়ামী শাসনে অনেকেই সুষ্ঠুভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। ‘২৪-এর পর অনেকে আশা করেছিলেন এই কাঠামো বদলাবে। কিন্তু তেমনটি হয়নি।
আমার পরিচিত অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা বহু বছর আগের শিক্ষাবর্ষের অনেককে অনৈতিকভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যারা শিবির-জামায়াত সমমনা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
‘২৪-এর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা চালু হয়। এই লিখিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দুই ধাপে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ শোনা যায়। অনেক প্রার্থীর অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন জামায়াত তাদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছে পরীক্ষার আগেই সরবরাহ করেছে। যেহেতু সমমনা কোরামের লোকেরাই সকল দায়িত্বে ছিলেন, তাই প্রশ্ন বাছাই করে চূড়ান্ত প্রশ্ন নির্ধারণ করা হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এছাড়া লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়েও চাতুর্যের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, যারা জামায়াতের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন, তাদের খাতা একজন শিক্ষক উঠিয়েছেন; আর বাকিদের খাতা উঠিয়েছেন অন্য দুইজন শিক্ষক। এভাবেই তারা খাতা উঠানোর সময়েই ফিল্টার করে ফেলেছেন কাদের নাম্বার বেশি দেয়া জরুরি।
আমি নিজে শিক্ষকতার পরীক্ষা দিইনি, তাই সরেজমিনে সব অনিয়ম দেখার সুযোগ হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসব জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের মাধ্যমে আমি বারবার বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রতারিত হয়েছি। এর কারণ এই নয় যে আমি তাদের কখনো অসম্মান করেছি। বরং আমি যে শিক্ষকের অধীনে গবেষণা করতাম, তিনি জামায়াত কোরামের কেউ ছিলেন না, এটাই ছিল মূল কারণ। নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তার খেসারত আমাকে সারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন দিতে হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রোফাইল পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে, অনেকেই জামায়াতপন্থী এবং তাদের নির্বাচনী প্রচারে সে বিষয়টি স্পষ্ট।
যে দল “ইনসাফ”কে নিজেদের মটো বানিয়ে ইনসাফের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নিজেদের ভেতরেই অন্যায় লালন করে, সেই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগতভাবে অবস্থান নেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। জামায়াত যদি “ইনসাফ” শব্দটিকে নিজেদের একচেটিয়া পরিচয় না বানাত, আমি হয়তো মৌন বিরোধিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। প্রকাশ্যে বলতাম কি না, নিশ্চিত নই। কারণ রাজনীতি আমার বিষয় নয়। এ দিয়ে দু’পয়সা আয়ের প্রয়োজনও আমার নেই। আমি যা করছি, তাতেই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
একজন তরুণ হিসেবে আমি চাই, দল-মত-ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে কারও প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয় এবং সবকিছু স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।
আপনার রাজনৈতিক সংগঠনে আপনি আপনার দলের লোক নেবেন, সমস্যা নেই। কিন্তু স্পষ্ট করে বলুন, যেন শুধু তারাই আবেদন করে। সবাইকে ডেকে প্রতারিত করার প্রয়োজন নেই।
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ আমাদের সবার। ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই জরুরি।
বিএনপিকে অভিনন্দন জানানোর সময় যখন অনেকে বিএনপিপন্থী হয়ে থাকার সিদ্ধান্তে অটল, তখন আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার জামায়াতবিরোধী অবস্থান কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে ভবিষ্যতে বিএনপির সব সিদ্ধান্তে আমি হ্যাঁ-হুজুরে পরিণত হব।
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক কাঠামোতে বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন আছে। সে পরিবর্তন যদি বিএনপি আনতে পারে, ভালো। নতুবা আমার বিরোধী, মৌন বা প্রকাশ্য, অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
আমি মনে করি, শাসন তখনই সুন্দর হয়, যখন জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার থাকে এবং শাসক স্বচ্ছ হয়। এখানে কেউ কারও গোলাম বা চাকর নয়; বরং একজন দায়িত্ব অর্পণকারী এবং আরেকজন দায়িত্ব পালনকারী।
এবার বলি, কেন এবারের নির্বাচনে আমার অবস্থান জামায়াতের বিপক্ষে ছিল। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমার সার্বিক জীবন বিবেচনা করলে দেখবেন, আমি সবসময়ই পড়াশোনার মধ্যেই ছিলাম এবং এই জীবনটাকেই উপভোগ করেছি।
আমার পরিমণ্ডলের অধিকাংশই মেধাবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। তাদের অনেকেরই আশা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার। আমার পরিচিত অনেকেরই এমন আশা ছিল। দীর্ঘকাল আওয়ামী শাসনে অনেকেই সুষ্ঠুভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। ‘২৪-এর পর অনেকে আশা করেছিলেন এই কাঠামো বদলাবে। কিন্তু তেমনটি হয়নি।
আমার পরিচিত অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা বহু বছর আগের শিক্ষাবর্ষের অনেককে অনৈতিকভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যারা শিবির-জামায়াত সমমনা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
‘২৪-এর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা চালু হয়। এই লিখিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দুই ধাপে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ শোনা যায়। অনেক প্রার্থীর অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন জামায়াত তাদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছে পরীক্ষার আগেই সরবরাহ করেছে। যেহেতু সমমনা কোরামের লোকেরাই সকল দায়িত্বে ছিলেন, তাই প্রশ্ন বাছাই করে চূড়ান্ত প্রশ্ন নির্ধারণ করা হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এছাড়া লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়েও চাতুর্যের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, যারা জামায়াতের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন, তাদের খাতা একজন শিক্ষক উঠিয়েছেন; আর বাকিদের খাতা উঠিয়েছেন অন্য দুইজন শিক্ষক। এভাবেই তারা খাতা উঠানোর সময়েই ফিল্টার করে ফেলেছেন কাদের নাম্বার বেশি দেয়া জরুরি।
আমি নিজে শিক্ষকতার পরীক্ষা দিইনি, তাই সরেজমিনে সব অনিয়ম দেখার সুযোগ হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসব জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের মাধ্যমে আমি বারবার বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রতারিত হয়েছি। এর কারণ এই নয় যে আমি তাদের কখনো অসম্মান করেছি। বরং আমি যে শিক্ষকের অধীনে গবেষণা করতাম, তিনি জামায়াত কোরামের কেউ ছিলেন না, এটাই ছিল মূল কারণ। নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তার খেসারত আমাকে সারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন দিতে হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রোফাইল পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে, অনেকেই জামায়াতপন্থী এবং তাদের নির্বাচনী প্রচারে সে বিষয়টি স্পষ্ট।
যে দল “ইনসাফ”কে নিজেদের মটো বানিয়ে ইনসাফের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নিজেদের ভেতরেই অন্যায় লালন করে, সেই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগতভাবে অবস্থান নেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। জামায়াত যদি “ইনসাফ” শব্দটিকে নিজেদের একচেটিয়া পরিচয় না বানাত, আমি হয়তো মৌন বিরোধিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। প্রকাশ্যে বলতাম কি না, নিশ্চিত নই। কারণ রাজনীতি আমার বিষয় নয়। এ দিয়ে দু’পয়সা আয়ের প্রয়োজনও আমার নেই। আমি যা করছি, তাতেই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
একজন তরুণ হিসেবে আমি চাই, দল-মত-ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে কারও প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয় এবং সবকিছু স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।
আপনার রাজনৈতিক সংগঠনে আপনি আপনার দলের লোক নেবেন, সমস্যা নেই। কিন্তু স্পষ্ট করে বলুন, যেন শুধু তারাই আবেদন করে। সবাইকে ডেকে প্রতারিত করার প্রয়োজন নেই।
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ আমাদের সবার। ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই জরুরি।

Post a Comment